সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ এখন নোংরা পলিটিক্সের উর্বর স্থান স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার আসামীর বিরুদ্ধে আবারো জোর করে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ

41

সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ এখন নোংরা পলিটিক্সের উর্বর স্থান
স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার আসামীর বিরুদ্ধে আবারো
জোর করে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষকরা আবারো হয়রানী ও বলপ্রয়োগের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি মহল দ্বারা বার বার এহেন অপমান অপদস্তের শিকার হলেও শিক্ষকরা কারো কাছেই বিচার পাচ্ছেন না। ফলে কলেজটিতে এখন আতংক বিরাজ করছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে সোমবার ও মঙ্গলবার মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নং ৬৭৯৪/২১ মামলার বাদী সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আশরাফউদ্দিন, সুব্রত কুমার নন্দী, মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ জাহিদুর রহমান ও মোঃ ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষক/কর্মচারীদের জিম্মি করে কলেজের প্রভাষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ আব্দুল হামিদ, আ খ ম মাসদুদ দারাইন এবং অফিস সহায়ক মোঃ সোলায়মান হোসাইনকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো চেষ্টা করে। পরে পুলিশী হস্তক্ষেপে তাদের তৎপরতা ভুন্ডুল হয়ে যায়। মঙ্গলবার আবারো শিক্ষকদের হুমকী ধমকি দেওয়া হয়। ভয়ে অনেক শিক্ষক কলেজে যেতে পারেনি। এই সুযোগে ওই মহলটি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের গরহাজির দেখায়। অথচ সন্ত্রাসীদের ভয় ও জোরপুর্বক সাক্ষর করিয়ে নেবার আতংকে শিক্ষকরা কলেজে আসতে পারেননি। জানা গেছে, ২০২১ সালে সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের ৫৭ জন শিক্ষক/কর্মচারীর স্বাক্ষর নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে ৬৭৯৪/২১ নং রীট পিটিশন দায়ের করা হয়। ২০২১ সালের ৩১ আগষ্ট মাহামান্য আদালত কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও স্বপরিবারে ভারতে বসবাসকারী সুকেশচন্দ্র জোয়ার্দ্দার ও ইউএনও কালীগঞ্জের স্বাক্ষরে এক মাসের মধ্যে বেতন-ভাতা উত্তোলনের আদেশ দেন। বাদীপক্ষ এ আদেশ কার্যকর করতে পারেনি। ইতোমধ্যে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান কলেজে যোগদান করে বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করায় ৬৭৯৪/২১ নং রীট পিটিশন নিয়ে শিক্ষক/কর্মচারীরা আর মাথা ঘামায়নি। ২০২২ সালের ৫ জুন উক্ত রীট পিটিশনের সূত্র ধরে মহামান্য হাইকোর্টের আইনজীবী মোঃ হুমায়ুন কবীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিনকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। যা কলেজের অধ্যক্ষ আইনী নোটিশের জবাব দানের উদ্দেশে মহামান্য আদালত থেকে ৬৭৯৪/২১ নং পিটিশনের নথি উত্তোলন করে দেখেন ৫৭ জন বাদীর স্বাক্ষরের মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষক/কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া। এমনকি ৩ নং বাদী যার স্বাক্ষরে বেতন উত্তোলনের আদেশ দেওয়া হয়েছে সেই ভারতপ্রবাসী সুকেশচন্দ্র জোয়ার্দ্দারের স্বাক্ষরও জাল। বিষয়টি ফাঁস হলে গত ৬ জুন ৩০ জন শিক্ষককর্মচারী ৩০০ টাকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এই মর্মে ঘোষণা দেন যে, রীট পিটিশন নং ৬৭৯৪/২১ এর সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। আপাততঃ বেতন-ভাতা উত্তোলনে কলেজে কোনো জটিলতা নেই। কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের পক্ষে মহামান্য হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যরিস্টার আতিকুর রহমান নোটিশের জবাব দিয়ে বলেন, রীট পিটিশন নং ৬৭৯৪/২১ এর বাদীর অধিকাংশ স্বাক্ষর জাল। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আইনজীবীসহ নোটিশদাতার বিরুদ্ধে ফৌজদারী আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। এতে রীট পিটিশনের বাদী স্বাক্ষর জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আশরাফ উদ্দিন ও সুব্রত নন্দীর চক্রান্তে কলেজের সকল শিক্ষক/কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর করানোর উদ্যোগ সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিনের হস্তক্ষেপে ভÐুল হয়ে যায়। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি বেতন বিলে স্বাক্ষর করে প্রতিস্বাক্ষরের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে পাঠিয়েছেন। আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা আটকানোর কোনো সুযোগ নেই।

অধ্যক্ষ বলেন, ২/১ দিনের মধ্যে উনি প্রতিস্বাক্ষর না করলে আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন জানান, পাল্টা পাল্টি উকিল নোটিশে আমি আইনগত বিষয়টি যাচাই বাছাই করছি। এতে হয়তো কিছুদিন বিলম্ব হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন বন্ধ বা স্থগিত হয়নি। অচিরেই তারা বেতন ভাতা পাবেন। তিনি বলেন মঙ্গলবার কলেজে গিয়ে দেখি শিক্ষকরা আসেনি। নিয়মিত ক্লাস নেওয়া তো তাদের ডিউটি। এটা ইউএনও হিসেবে আমি তদারকী করতেই পারি। শিক্ষকদের ক্লাসে না পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here