ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে বেড়েই চলেছে বিয়েবিচ্ছেদ

235

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে বেড়েই চলেছে বিয়েবিচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিয়েবিচ্ছেদ বেড়েই চলেছে । গত ১৪ মাসে উপজেলায় ২১৯ টি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে । আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ । নানা কারণে ক্রমেই তালাকের সংখ্যায় ভারি হচ্ছে নিকাহ রেজিস্ট্রারের রেকর্ড খাতা । জানা গেছে , ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে ২১৯ টি । এর মধ্যে স্ত্রীর ইচ্ছায় ৯৯ টি , স্বামীর ইচ্ছায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭৮ টি । আর উভয়ের আপসের মাধ্যমে বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে ৪২ টি । নিকাহ রেজিস্ট্রার মো . সাইদুর রহমান জানান , এসব বিচ্ছেদে নারীরা স্বামী ও শ্বশুর – শাশুড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন , যৌতুক দাবি , স্বামীর বেপরোয়া জীবনযাপনসহ নানা কারণ উল্লেখ করেছেন । আর পুরুষরা তাদের নোটিশে বনিবনা না হওয়া , স্বামী ও শ্বশুর – শাশুড়ির প্রতি স্ত্রীদের অবহেলার কথা জানিয়েছেন । তুচ্ছ ঘটনাতেও বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে । গত ১ ফেব্রুয়ারি শাহিদা বা খাতয়েছেন । জানতে চাইে ( ছদ্মনাম ) নামের এক নারী তার স্বামীকে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন । জানতে চাইলে তিনি বলেন , তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল । বিয়ের পর স্বামীর বেপরোয়া চলাফেরা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া – বিবাদ হতো । এতে শ্বশুর – শাশুড়িও তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন । শুধু শাহিদা নয় তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিদিনই ঘটছে এমন বিচ্ছেদের ঘটনা । রিপন নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন । তিনি বলেন , ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল । বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হয় না । তিনি বহুবার তার স্ত্রীর পরিবারকে জানিয়েছেন তবুও কোনো ফল না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জেলাজুড়ে বিয়েবিচ্ছেদের আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে । জেলা নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিন বছরে জেলায় বিচ্ছেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭৮ টিতে । প্রতি মাসে গড়ে ২৭১.৬১ টি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে । তবে এ সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা । কারণ নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ছাড়াও আদালত , পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেও ঘটছে এই তালাকের ঘটনা । জেলা কাজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো . ওবাইদুর রহমান জানান , করোনাকালে বিয়ে বন্ধনের চেয়ে বিচ্ছেদের ঘটনাই বেশি ঘটছে । উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সী ফিরোজা সুলতানা বলেন , তালাকের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে । সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নারীদের কর্মমুখী শিক্ষার দিকে নিয়ে যেতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে । যাতে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here