ঝিনাইদহ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

134

ঝিনাইদহ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

 আলী সোহাগ,ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন(রেজি নং- ২২১০) নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। আবারও ক্ষমতায় থাকতে নিজেদের পক্ষের লোককে গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে সদস্য করে ভোটার বানানোর অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ইকতিয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নানের বিরুদ্ধে। জানাগেছে, আগামী ১১ ডিসেম্বর নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নভেম্বরের ৫ তারিখে সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ইউনিয়নের কিছু সদস্য অভিযোগ করেছেন, পূর্বে মাত্র ৮০ জনের মত সদস্য ও ভোটার থাকলেও নির্বাচনে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে নিজেদের পক্ষের লোকদের ভোটার বানিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছেন বর্তমান কমিটি। এনিয়ে সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ সভায় বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর কুষ্ঠিয়ার ডিডি জহুরুল ইসলাম ও এডি সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তারা সদস্যদের ভোটার বাড়ানোর পরামর্শ দেন। সেই সুযোগে নিজেদের পক্ষের ২৬৭ জন নতুন ভোটার বানিয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু গঠনতন্ত্র উল্লেখ রয়েছে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৫৫(ক) ফরমে আবেদন করে সদস্য হবেন কমিটির ৫৫(ঘ) ফরমের প্রত্যয়ন পত্র অনুযায়ী। এবং ভোটার হতে হলে নির্বাচনের কমপক্ষে একমাস আগে সকল চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের অ্যাডঃ আঃ হাদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে অ্যাডঃ আঃ আওয়াল ও অ্যাডঃ মোঃ মনিরুল ইসলামকে সহকারী কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। মনোনয়ন ফর্ম কেনা বেচাও শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটার তালিকাও প্রদান করা হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এমন প্রশ্ন করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডঃ আঃ হাদি বলেন, আমি তো সবাইকে চিনি না। কারা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক কারা শ্রমিক নয় সেটা তারাই নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমি কোন বিতর্কিত কাজের মধ্যে যাবো না। তারা নিজেরাই আমাকে নির্বাচন কমিশানার নির্ধারণ করেছে। নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে শ্রম অধিদপ্তর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের এডি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গঠিত নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছি। তারাই ব্যবস্থা নেবে। এই সংগঠনে ভোটার সংখ্যা কম বলে আমরাই ভোটার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু অনিয়ম করে নয়। ইউনিয়নের সভাপতি ইকতিয়ার হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্যারেরা আমাদের ভোটার বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। আমাদের সংগঠনের দুইটা গ্রুপ আছে উভয় পক্ষকেই তিনি বলেন। আমরা জমা দিয়েছি, তারা দেয়নি। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান বলেন, আপনাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে কে কে তাদের নাম বলেন। নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেন। তারপর নিউজ করেন। ইউনিয়নের সদস্য আঃ হান্নান ও খোকন জানান, বর্তমান কমিটি তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিচ্ছেন তাদের পছন্দের লোকদের ভোটার বানিয়ে। আমরা একটি তালিকা দিয়েছিলাম ২০০ জনের। কিন্তু তারা সেই তালিকা থেকে কাউকে ভোটার বানায়নি। গোপনে তফশিল ঘোষণা করে ভোটের কার্যক্রম করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। সঠিক ভোটার তালিকা তৈরির মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here