ঝিনাইদহ আলোচিত ৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাহ হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও নায্য বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী।

103

ঝিনাইদহ আলোচিত ৩য় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাহ হোসেন হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও নায্য বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী।

বি এম রকিবউল করিম,ঝিনাইদহঃ
আজ ৯ অক্টোবর সকাল ১১ টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিহত বিল্লাহ হোসেনের বাবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের মামা আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখ সকাল ১১ টার দিকে আসামী মিজানুর রহমানের কলাক্ষেত্রে বিল্লাহ হোসেনের লাশ দেখতে পান গ্রামবাসী। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তদন্ত করেন ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর কবীর হোসেন।সুরতহাল তদন্তে লাশের শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দিকে নিহতের বাবা শহিদুল ইসলামকে থানায় ডেকে এসআই প্রবীরের লেখা একটা এজাহার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।লেখাপড়া না জানা শহিদুল ইসলাম কোনো দ্বিধাহীনভাবে স্বাক্ষর করে দেন। এজাহারে মিজানুর রহমানের নামসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটা মামলা রেকর্ড করেন তৎকালীন ওসি এমদাদুল হক।মামলা নং ৬/২০১৯। তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন এসআই প্রবীর।

মামলা রেকর্ডের পর প্রভাবশালী আসামিরা স্হানীয় রাজনৈতিক রাজনৈতিক লোকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এসআই প্রবীর নিহতের বড় ভাই হযরত আলীসহ তার চাচাতো ভাইদের ধরে থানায় নিয়ে আসে।পরে শহিদুল ইসলাম পুলিশ সুপারের দারস্থ হলে তাদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হযরত আলী মুক্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।তার শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন। নিহতের বড় ভাই হযরত আলী পরিবারের লোকজনকে জানান,এসআই প্রবীর তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বিল্লাহ হোসেনকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করতে বলেন। স্বীকার না করায় তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।

কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয় না।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাতে থাকেন।কোনো উপায় না পেয়ে নিহতের মা ঝিনাইদহ আদালতে পিটিশন দায়ের করেন ও আরো কয়েকজনকে আসামি নাম উল্লেখ করেন।

বর্তমানে পিবিআইয়ের ওসি আঃ রব মামলাটি তদন্ত করছেন। কিন্তু ২ বছর হয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেন নি।এদিকে আসামিরা এলাকায় স্ব শরীর ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়াই তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিহতের পরিবারকে এক ঘরে করে রাখছে।মাঠে কোনো প্রকার চাষাবাদ করতে দিচ্ছে না।উল্টো বিভিন্ন সময় মামলা তুলে না নিলে প্রাণ নাশসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমাদের পুরো পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সর্বশেষ তিনি বলেন আমরা এই ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও আইজিপি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবী করছি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে কান্না ভেঙে পড়া নিহতের মা বলেন, ওরা আমার এক সন্তানকে দুনিয়া ছাড়া করছে, আরেক সন্তানকে করছে পঙ্গু। ওরা আমাদের ঠিকভাবে বাঁচতে দিবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম, মা রাজিয়া খাতুন,মামা আব্দুল্লাহ, বড় ভাই হযরত আলীসহ গ্রামের আরো অনেকে।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও মিডিয়ার সাংবাদিকরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here