গাড়াগঞ্জ মিঞা জিন্নাহ আলম কলেজে ২০ বছর আগের হাজিরা দেখিয়ে ১ কোটি বিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৬ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

114

গাড়াগঞ্জ মিঞা জিন্নাহ আলম কলেজে ২০ বছর আগের হাজিরা দেখিয়ে ১ কোটি বিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৬ শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

ইনছান আলী, ঝিনাইদহ 
শৈলকূপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ মিঞা জিন্নাহ আলম ডিগ্রী কলেজ ৬ শিক্ষকের নিয়োগে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে ২০ বছরের পিছনেরর হাজিরা খাতার হাজিরা দেখিয়ে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার ১০/১২ জনের একটি দল গাড়াগঞ্জ মিঞা জিন্নাহ আলম ডিগ্রী কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে ” অবৈধ ভাবে ব্যাক ডেটে শিক্ষক নিয়োগ তদন্ত প্রসঙ্গে ” বিষয়ে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করে। এই সময়ে কার্যালয়ে জেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার উপস্থিত না থাকায় শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আবু সাইদ তাদের অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেন।
অভিযোগ পত্র ছাত্র গন উল্লেখ করেন যে দীর্ঘদিন যাবত কলেজটি সুনামের সহিত লেখাপড়া কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কিন্ত বিগত ১৮/০৯/২০২১ তারিখ থেকে আমরা ৫ জন নতুন ব্যক্তিকে কলেজ ক্যাম্পাসে দেখতে পাই। পরে তারা আমাদের ক্লাসে পাঠদানে অংশ গ্রহণ করেন। তাদের পাঠদানের কোন যোগ্যতা নেই। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম ২০০৫ সালের পূর্বে তাদেরকে যোগদান দেখিয়ে অত্র কলেজে নিয়োগ দান করেন। কিন্ত ২০০৫ সালের পর থেকে আজ পযুন্ত অত্র কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কে কখনোই কলেজের শিক্ষক হিসাবে পাঠদানে অংশ গ্রহণ করিতে দেখে নাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাদের সকলের বয়স পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব, তারা বিভিন্ন এনজিও তে চাকুরী করিত এবং তাদের অনেকের শিক্ষক নিবন্ধন নেই। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোয়েছে।
অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে ইতিপূর্বে শ্রী মৃত্যুঞ্জয় কুমার চাকীকে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ে ব্যাক ডেট দেখিয়ে নিয়োগ দিয়ে বেতন অনুমোদন করেছে । উল্লেখ্য যে ২০১৫ সালের পর থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত দায়িত্ব যেখানে এন টি আর সি এ এর উপর। সেখানে বর্তমানে কি ভাবে ২০২১ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৬ জন ( ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা, পৌরনীতি ) শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন। বিষয়টি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতা ও কলেজর শিক্ষকদের বেতন ভাতার হিসাব তদন্ত করিলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
এই প্রসঙ্গে ঘটনার সত্যতা জানতে গাড়াগঞ্জ মিঞা জিন্নাহ আলম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তরিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে জানতে চাইলে সে বলে যে অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। ঐ ভাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না। ২০১৫ সাল থেকে বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব এন টি আর সি এ এর উপর। কেউ যদি কোন অভিযোগ করে থাকে তাহলে সে অভিযোগ ভিত্তিহীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here