ঝিনাইদহ হরিনাকুন্ডু উপজেলার ভূখন্ড উৎপত্তি ইতিহাস।

91

ঝিনাইদহ হরিনাকুন্ডু উপজেলার ভূখন্ড উৎপত্তি ইতিহাস।

কনক আহাম্মেদ, হরিণাকুন্ডু প্রতিনিধিঃ প্রাচীন উপবঙ্গে যে ১২টি দ্বীপ সমুদ্রগর্ভ হতে জেগে উঠেছিল তন্মধ্যে জয়দ্বীপ ছিল অন্যতম। নবগঙ্গা নদীর পূর্ব কুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা হচ্ছে জয়দ্বীপ, উত্তরে গড়াই নদী হতে পূর্বে মধুমতি পর্যন্ত জয়দ্বীপ বিস্তৃত ছিল বলে অনুমান করা হয়। কেননা হরিনাকুন্ডু নবগঙ্গার পূর্ব কুলবর্তী অংসের মধ্যে পড়ে। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত এ সকল দ্বীপে লোক বসতি গড়ে উঠেছিল বলে মনে হয় না। এ শতাব্দীর মধ্যভাগ হতে হরিনাকুন্ডুর বিভিন্ন স্থানে গ্রামের উৎপত্তি হতে থাকে বলে মনে করা হয়। তবে দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে অবশ্য হরিনাকুন্ডুর বিভিন্নস্থানে গ্রাম গড়ে উঠতে শুরু করে। বাংলার মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে গ্রামগুলোর পরিবর্তন ঘঠেছে।এ সময় হতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হরিনাকুন্ডুর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা ও কুমার নদীর উভয় কুলবর্তী এলাকায় প্রথম জনবসতি গড়ে উঠেছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। কেননা জোড়াদহ, ভায়না, ভবানীপুর, কামারখালী, ভেড়াখালি, রামনগর, হরিশপুর, গ্রামগুলো অতি প্রাচীন।
কালের প্রবাহে মৎসজীবী লোকের বসতি স্থল ও ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বসতি স্থলে পরিনত হয় হরিনাকুন্ডু। ১৯৭০ সালে হরিশপুরে মহেন্দ্রনাথ কর্মকারের সৌজন্যে হিন্দু শাসনামলের একটি প্রাচীন পাওয়া যায়। মুদ্রাটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা। ইহাতে বোঝা যায় হরিণাকুন্ডু অঞ্চলে একদা হিন্দু শাসনাধীন ছিল। এ ছাড়া ফরাসি ভাষায় লেখা পাঠানামলের একটি মুদ্রা, ব্রিটিশ আমলের ২টি মুদ্রা ও একটি কড়ি হরিনাকুন্ডুর অদুরে ভুহর্ভে পাওয়া যায়। ভূগর্ভে প্রাপ্ত এসব প্রাচীন মুদ্রা ও কড়ি থেকে হরিনাকুন্ডুর প্রাচীনতার লক্ষন পাওয়া যায়।
শাসনকার্যের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবর (১৬৫৬-১৬০৬ খ্রী.) বিজিত বাংলা প্রদেশে ন্যস্ত করেন একজন সুবাদারের অধীনে। এ সময় বাংলাকে কয়েকটি ফৌজদার এলাকায় বিভক্ত করা হয়। বিভক্ত প্রতিটি এলাকায় নিয়োজিত করা হয় একজন করে ফোজদার। তিনি ঐ এলাকার শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। এনায়েত খাঁ যশোরের প্রথম মোঘল ফৌজদার ছিলেন, এ সময় সমস্ত ঝিনাইদহ অঞ্চল যশোর ফোজদারভুক্ত ছিল। রাজস্ব আদায়ের জন্য এদেশকে কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত করা হয়। তখন ঝিনাইদহ ও হরিনাকুন্ডু অঞ্চল মুহম্মদশাহী পরগণার অধীন ছিল।পরগণাগুলোকে আবার থানায় বিভক্ত করা হয়। হরিনাকুন্ডুর ৫ কিমি. উত্তরে হরিশপুর গ্রামে মোঘল আমলে প্রথম থানা ছিল বলে জানা যায়। এ থানা ইংরেজ আমল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ১৮৬২ সালে ঝিনাইদহ মহকুমা ঘোষিত হওয়ার পর হরিনাকুন্ডুর উন্নতি শুরু হয়। নীলকুঠিয়াল সাহেবরা সাধুহাটি থেকে হরিনাকুন্ডুর মধ্যদিয়ে জোড়াদহ পর্যন্ত নির্মান করেন একটি পাকা রাস্তা। ফলে হরিনাকুন্ডুর গুরুত্ব আরো বুদ্ধি পেতে থাকে। হরিনাকুন্ডুর অধিকাংশ নড়াইল জমিদার স্টেটের অধীন ছিল। হরিশপুর, জোড়াদহ, নড়াইল জমিদার স্টেটের রাজস্ব আদায়ের কাচারি ছিল। ১৯৮৪ সালে ঝিনাইদহকে জেলায় রুপান্তরিত করা হয় এবং এরপর হরিনাকুন্ডুকে উন্নীত করা হয় উপজেলায়।
হরিনাকুন্ডুতে একসময় নলডাঙ্গার রাজা, নড়াইল জমিদার ও ভাগ্যকুল জমিদারদের জমিদারি ছিল। তথপূর্বে হরিনাকুন্ডু ভুষণার অধীন মহম্মদপুর (মাগুরা জেলা) পরগনার অধীন ছিল।বৃটিশ আমলে অনেক এখানে অনেক গ্রামে তালুকদার, জোতদার, পোতদার,ও পত্তনিদার ছিল,, তাঁরা জমিদারি হালে জীবন জাপন কাটাতো। ছোট ছোট তালুকদারদের মধ্যে জোড়াদহের নীলকুঠিয়াল সাহেব মি. শেরিফ(Mr.Sherif)নড়াইল স্টেটের অধীন তালুকদার ছিলেন। এছাড়াও হরিনাকুন্ডুর বাবু প্রিয়নাথ রায়, শ্রী শরৎ চন্দ্র রায়, শ্রী সত্যেন্দ্রনাথ রায় চৌধরী, ভবানীপুরের শ্রী রজনীকান্ত সাহা ও শ্রী সাধুচরণ সাহা প্রমুখ পত্তনি তালুকদার ছিলেন। তারা নলডাঙ্গা রাজ স্টেটের অধীন তালুকদার ছিলেন।এ ছাড়া হরিনাকুন্ডুর শ্রী সৌরেন্দ্র মহন চৌধরী ও পরান কাজী মোঘল আমলে হরিশপুরে পত্তনিদার ছিলেন। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় হরিনাকুন্ডু অঞ্চলে বেশ কয়েকজন তালুকদার, জোতদার,ও পত্তনিদার ছিলেন।

তথ্যসুত্র,, ঝিনাইদহ জেলার ইতিহাস
Advocate A M Samsuzzaman (Piltu)
Organising Secretary
Harinakundu Somitty, Dhaka.
————————–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here