ঝিনাইদহে বাড়ির উঠানে সরকারি রাস্তা!

56
বাড়ির উঠানে সরকারি রাস্তা!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
সরকারি রাস্তার জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ শোনা গেলেও বাড়ির জমিতে সরকারি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কখনো শোনা যায়নি। কিন্তু বাড়ির উঠানে সরকারি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনাটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের জিথর গ্রামের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তার বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করেছেন।
ঝিনাইদহ শহর থেকে নারকিলবাড়িয়া হয়ে একটি সড়ক টিকারী বাজারে চলে গেছে। যার উত্তরে জিথর গ্রাম।গ্রামের রাসখোলা মন্দির পর্যন্ত পাকা রাস্তা রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব উত্তরে বেশকিছু পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে সমন্বয় করে চলাচল করেন। মূলত ওই পাড়ার রাজকুমার মণ্ডল ও মনোতোষ মণ্ডলের বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল ছিল তাদের। হঠাৎ করেই ওই বাড়ির উঠানের উপর দিয়ে সরকারি প্রকল্পে ইট বিছানো রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের বাড়ির পেছনে পাঁচটি পরিবার রয়েছে যার মধ্যে ঘোরশাল ইউপি সচিব প্রতাপ বিশ্বাসের বাড়ি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রাস্তাটি নির্মাণ হয়েছে। রাস্তাটি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৯৫ টাকা।ফুরসন্ধি ইউপি সদস্য সুবর্ণা রানী এই কাজের প্রকল্প সভাপতি। কাজটি চলমান।
রাজকুমার মণ্ডল বলেন, তাদের বাড়ির পিছনে প্রতাপ বিশ্বাসের বাড়ি তিনি অল্প কিছুদিন আগে ইউপি সচিব হয়েছেন। জমির এক পাশ দিয়ে রাস্তা করার কথা বলেছিলেন কিন্তু তিনি( প্রতাপ) জানিয়েছিলেন রাস্তা সোজা পাস হয়ে গেছে বাঁকা করা যাবে না।
রাজকুমার মণ্ডলের ভাই রুমানাথ মণ্ডল বলেন, তিনি দুই বাড়ির পিছনে বসবাস করেন।তার বাড়ির পাশে প্রতাপদের বাড়ি। প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ একদিন তাদের বাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাপযোগ শুরু হয়। তখন তারা বাঁধা দেন এবং জমির এক পাশ দিয়ে রাস্তা করার প্রস্তাব দেন কিন্তু তাদের কথা শোনেনি।বরং আমি আপত্তি করায় ওই সময় আমাকে মারধর করা হয়।
আমাদের এলাকায় অনেক সরকারি রাস্তা বর্ষাকালে কাঁদা হয় কিন্তু ওই সকল রাস্তার কাজ কেউ করছে না কিন্তু আমার নীরিহ বলে প্রতাপ তার ক্ষমতার জোর আমাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা করেছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতাপ বিশ্বাস বলেন এ রাস্তা দিয়ে তারা প্রায় ৪০ বছর চলাচল করেন। তারপরও সবার সঙ্গে আলোচনা এটি করা হয়েছে। জোর করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।যারা একসময় ভালো মনে রাস্তা দিয়েছেন তারা এখন একটি মহলেট ষড়যন্ত্রের নানা অভিযোগ তুলছেন। তিনি গ্রামে থাকেন না।মাঝে মধ্যে বাড়িতে যান যারা সেখানে থাকেন তাদের জন্য রাস্তা পাকা করা হয়েছে।প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে রাস্তা করার অনুমতি দিয়েছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বলেন, যাদের বাড়ির উপর দিয়ে রাস্তা গেছে তারা আপত্তি করেছিলেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কথা বলার পর তার রাস্তাটি করেছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন জানান,গতকাল ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমি সরেজমিন গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here