ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিবাদপুর্ন জমি দখল করে স্কুল নির্মানের অভিযোগ

32

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিবাদপুর্ন জমি দখল করে স্কুল নির্মানের অভিযোগ

জাহিদুল হক বাবুঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিবাদপূর্ন জমি দখল করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মানের অভিয়োগ পাওয়া গেছে। মহেশপুর উপজেলার ৯৭ নং বোয়ালিয়া মৌজার সাবেক ৩২৫ নং দাগের হাল ৫৮৭ নং দাগের জমি নিয়ে ৯ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সাল হতে হরিনাকুন্ডু আদালতে মামলা করা হয়।
এর পর ২০০২ সালে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি বাদী মোঃ হোসেন আলী মন্ডলের পক্ষে একতরফা রায় হয়। রায়ের পর বিবাদী ওই জমিতে আদালতে আপিল করে। এখনো পর্যন্ত ওই জমির বিরোধে ঝিনাইদহ আদালতে মামলা চলমান আছে। তারপরও বিবাদপূর্ন জমিতে বোয়ালিয়া পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

হোসেন আলী ২০১৫ সালে মারা যাবার পর তার ৬জন ছেলে মেয়ে ওই জমির অংশিদার হয়। ছেলেমেয়েরা হলো, ১) মোঃ হাফিজুর রহমান, ২) টিপু সুলতান, ৩) মোঃ রিপন, ৪) মোছাঃ আমেনা খাতুন, ৫) মোছাঃ জামেনা খাতুন, ৬) মোছাঃ অঞ্জনা খাতুন । পিতার মৃত্যুর পর বড় ছেলে (এস আই) মোঃ হাফিজুর রহমান মামলাটি চলমান রাখেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা ডিএমপিতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) পদে কর্মরত আছেন।
সরোজমিনে গিয়ে জানা যায় মোঃ হোসেন আলী মন্ডল জীবিত থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালে ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু সহকারী জজ আদালতে ৪০শতাংশ জমিতে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০২ সালে একতরফা বাদীর পক্ষে রায় হয়। একতরফা রায়ের পর বিবাদী আদালতে আপিল করেন, যাহার মামলা নং ৫২/৯৯। ওই জমিতে মামলা চলমান অবস্থায় বিবাদী ২০১০ সালে ৪০ শতকের মধ্যে ৩৩ শতক জমি স্কুলের কাছে বিক্রি করেন। সেখানে ৩৩ শতক জমিতে স্কুল করার কথা থাকলেও সম্পন্ন ৪০ শতক জমিতেই স্কুল নির্মান কাজ শুরু করেন। পরবর্তিতে স্কুলটি সরকারি হওয়ায় নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়। এরপর আবারো বাদীর পক্ষথেকে আদালতকে অবগত করলে পাঁচ জুলাই ২০২০ সালে ঝিনাইদহ আদালত হতে কাজটি স্থগীত রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারি হয়। বিচারাধীন অবস্থায় ৫৮৭নং দাগ হতে ০৭ (সাত) শতক জমি বাদ রেখে স্কুল বিল্ডিং করার কথা থাকলেও নিয়মনিতি না মেনে জোরপুর্বক ৪০ শতক জমিই দখল করে স্কুল বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছেন।
বাদী মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, তার বাবা ১৯৯৯ সালে হরিণাকুন্ডু সহকারী জজ আদালতে ৯৭ নং বোয়ালিয়া মৌজার সাবেক ৩২৫ নং দাগের হাল ৫৮৭ নং দাগের ৪০শতক জমিতে মামলা করেন। এরপর ২০০২ সালে আমারে নামে একতরফা রায় হয়। রায়েরর পর বিবাদী স্কুলের কাছে ৩৩ শতক জমি বিক্রি করে দেয়। এরপর স্কুল কর্তিপক্ষ ৭শতক জমি রেখে স্কুল করার কথা থাকলেও থাকলেও ৪০ শতক জমিতেই স্কুল নির্মান করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিবাদোমান জমি ও আদালতের রায় অমান্য করে কিভাবে ওই জমিতে স্কুল ভবন নির্মান করেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হাজাঙ্গীর আলম বলেন, মহেশপুর বোয়ালীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ২০১৩ সালে জাতীয় করণ হয়। আমাদের ওখানে স্কুলের জমি আছে ৩৩শতক। আমরা ওই ৩৩ শতক জমিতেই স্কুল ভবন নির্মান করছি। ভবনের বিষয়ে ২০২০ সালে পূর্বে কোন আপত্তিপত্র পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্কুল ভবনের কাজ শুরু হবার পরে পাশের জমির মালিক কোর্টে মামলা করেন। আমরা উকিলের মাধ্যমে জবাব দিয়ে ভবন নির্মানের কাজ চলমান রেখেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here