ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকায় আবিষ্কৃত প্রাচীন ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত গুলোর মধ্যে “গোড়ার মসজিদ” অন্যতম।

31

 

হাসিবুল হাসান তন্ময়, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকায় আবিষ্কৃত প্রাচীন ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত গুলোর মধ্যে “গোড়ার মসজিদ” অন্যতম। কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন অন্তর্গত বেলাট-দৌলতপুর গ্রামে এই ঐতিহাসিক “গোড়ার মসজিদ” অবস্থিত।

মসজিদটিতে কোন শিলালিপি পাওয়া যায়নি ফলে এর নির্মাণ কাল ও নামকরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য উদঘাটন করা দুঃসাধ্য। ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান তাঁর প্রণীত “বাংলাদেশের মুসলিম পুরাকীর্তি” গ্রন্থে মসজিদটির নাম ‘গোড়ার মসজিদ’ উল্লেখ করেছেন। পুরাতত্ত্ববিদ আ. ক. মোঃ যাকারিয়া “বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ” গ্রন্থে মসজিদটি ‘গোড়াই মসজিদ’ বলেছেন। অধ্যাপক সোহরাব উদ্দীন আহমদ এর মতে এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের শুরুতেই বা প্রথমেই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল বলে এর নাম “গোড়ার মসজিদ” হয়েছে। নামকরণ সম্পর্কে এসব অভিমতের সমর্থনে কোন ইতিহাস বা উৎস তারা উল্লেখ করেননি।
তবে স্থানীয় জনসাধারণ মসজিদটি “গোড়ার মসজিদ” বলে থাকেন। তাদের মতে পীর গোরাচাঁদ বা গোরাই নামে একজন সুফী এ অঞ্চলে বসবাস করতেন। গোরাই পীরের নাম অনুসারে এ মসজিদকে “গোরাই মসজিদ” হিসেবে ডাকা হয়। মসজিদের পাশে আবিষ্কৃত একটি কবরকে স্থানীয়রা গোরাই দরবেশের কবর বলে মনে করেন।
স্থানীয় এক বয়োজ্যেষ্ঠ এম. আরশেদ আলী, (সদস্য সচিব, বারোবাজার প্রকৃতি ও প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা রক্ষা কমিটি) বলেন, “অত্র এলাকার প্রত্নতত্ত্ব সমূহের মধ্যে এই গোড়ার মসজিদটি সবচেয়ে ভালো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, শুধু গম্বুজ গুলোর কিছু অংশ ভাঙ্গা ছিল। প্রায় ৭৫ বছর আগে ফুরফুরার পীর সাহেব এখানে এসে প্রথম এটিকে মসজিদ হিসাবে চিহ্নিত করেন এবং পরিস্কার করে সেখনে নামাজের নির্দেশ দেন”।

গোড়ার মসজিদটি আকৃতিগতভাবে বর্গাকৃতির। ১টি বড় গম্বুজ ও ৩টি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ রয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদ ও ঐতিহাসিকদের গবেষণায় মসজিদটির স্থাপত্য রীতি, বৈশিষ্ট্য ও টেরাকোটা অলংকরণ মধ্যযুগে নির্মিত মসজিদের ইঙ্গিত বহন করে।

ক্ষুদ্রাকৃতির গম্বুজ, অষ্টকোণাকৃত বুরুজ, কৌণিক খিলানাকৃতির প্রবেশপথ, নির্মানে ছোট ছোট পাতলা ইট, চুন-সুরকী, বালির ব্যবহার এবং অলংকরণে টেরাকোটা ব্যবহার মসজিদটি কে করেছে দৃষ্টিনন্দন। দেয়ালের পুরুত্ব ৫’-৫” প্রায়। বারোবাজারের অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের সাথে এর স্থাপত্যশৈলীর মিল রয়েছে। এ মসজিদের বাইরের দেয়াল সম্পূর্ণটাই পোড়ামাটির কারুকার্য (টেরাকোটা) দ্বারা চমৎকার ভাবে অলংকৃত। উক্ত মসজিদের অলংকরণ প্রাচুর্যতা অন্যান্য প্রচীন মসজিদ অপেক্ষা উন্নত।

মসজিদের পূর্বে রয়েছে একটি বড় ঘাটবাঁধানো পুকুর। পুকুর টি “গোড়াই পুকুর” নামে পরিচিত। বারোবাজারের বেশ কয়েকটি প্রাচীন মসজিদের নাম পার্শ্ববর্তী দীঘি বা পুকুরের নামানুসারে হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন, গোড়াই মসজিদটি খুব সম্ভবত হোসেন শাহ বা তার পুত্র নসরত শাহ-এর শাসনামলে তৈরি করা হয়েছে। ৯০ দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে বারোবাজারে প্রত্নতত্ত্বের সন্ধানে ব্যপক খনন কাজ হয়। তখন এই এলাকার আরও বেশ কয়েকটি মসজিদের সাথে উক্ত মসজিদটিও বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্নতত্ত্ব তালিকাতে স্থান করে নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here