ঝিনাইদহে স্বামীর বাড়ী থেকে গৃহবধু উধাও: বাবার বাড়ী এসে আত্নহত্যার চেষ্টাঃচার দিন পর মৃত্যু

43

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহে স্বামীর বাড়ী থেকে এক গৃহবধু উধাও হওয়ার একদিন পর শশুর বাড়ী থেকে মুঠো ফোনের মাধ্যমে স্বামী জানতে পারে তার স্ত্রী গলায় রশি দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করতে যেয়ে গলায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জরুরী চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামে ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্বামী হালিম অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে লেখা মিথ্যা সংবাদ প্রচার দেখে তিনি বিস্মিত হন। এবং আসল সত্য ঘটনা তুলে ধরতে তিনি সংবাদ কর্মীদের দারস্ত হন। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের মোঃ গোলাম রসুলের মেয়ে সোনালির সাথে সাত বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ বছর পর তাদের মাঝে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমান ছেলেটির বয়স ৪ বছর। সন্তান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাদের সাংসারিক জীবনে কোন প্রকার ঝামেলা হয়নি। কিন্তু গত দুই আড়াই বছর হলো স্ত্রীকে সাংসারিক কাজে অন্য মনস্ক হতে দেখা যায়। হালিম বলেন, পরিবারের কোন এক ব্যাক্তির মাধ্যমে সে জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সোনালী খাতুন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে (স্বামীর সাথে কথা বলার অনুরুপ ভঙ্গিতে) অনেক সময় ধরে কথা বলে। বিষয়টি কিছু দিন দেখার পর তার মনে সন্দেহ হলে তিনি হালিমে’র কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। কিন্তু হালিম কাজের তাগিদে বাহিরে থাকলে তার স্ত্রীর সাথে তেমন কোন কথা হয়না বলে তিনি জানান। হালিম সংবাদ কর্মীদের কাছে বলেন, স্ত্রীকে কোন দোষারোপ করার আগে তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে থাকেন। এক পর্যায় তারা নিশ্চিত হন যে স্ত্রী সোনালী খাতুন তার স্বামীর সাথে নয় অন্য কোন এক ছেলের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়েছে। এরপর বিষয়টি তার শশুর বাড়ীর লোকদের জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়ে সোনালির নামে এধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ পেয়ে হালিমের চাচা শশুর আনিচুর রহমান বিষয়টি নিয়ে গোপনে তদন্ত করতে থাকে। এক পর্যায় ভাতিজীর মোবাইলে একটি অপরিচিত নাম্বার দেখে। নাম্বারের মালিককে খুঁজে পেলে আসল সত্য উদ্ঘাটন হয়। এবং প্রমাণিত হয় তাদের মেয়ে সোনালী খাতুন পরকীয়া প্রেমে মত্ত হয়েছে। হালিম বলেন এরপর থেকে স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে তাদের মাঝে অশান্তি বিরাজ করতে থাকে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার এলাকার মাতব্বর ও স্থানীয় জন প্রতিনিধির মাধ্যমে বসাবসি করে মীমাংসা হয়। কিন্তু তার স্ত্রীর কোন পরিবর্তন না হওয়ায় গত পহেলা এপ্রিল দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আবারও রাত্রে একটা শালিস বসানো হয়। তিনি বলেন, শালিসে বসার আগে তার চাচা শশুর আমাদের ডেকে নিয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক যাহাতে নষ্ট না হয় বা কেউ নষ্ট না করতে পারে এজন্য ঝিনাইদহ সদর থানায় কথিত সাগর নামে ঐ ছেলের নামে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডি করা হয়।এরপর ঐ রাত্রে দু-পক্ষের উপস্থিতিতে হালিমের বাসায় সালিশ করে স্ত্রী সোনালী কথিত সাগর নামের ঐ ছেলের সাথে আর কথা বলবেনা এবং স্বামী হালিম এই বিষয় নিয়ে আর কথা বলবেনা সর্তে তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। এর একদিন পর গত ৩ এপ্রিল হালিম তার স্ত্রী সোনালীকে নিয়ে শশুর বাড়ী কাস্টসাগরা গ্রামে বেড়াতে আসে এবং ঐ দিনই তারা দুজন হালিমদের বাড়িতে ফিরে যান। হালিম বলেন, এরপর ৪ এপ্রিল স্ত্রীকে নিয়ে আবারও শশুর বাড়িতে আসেন কুষ্টিয়া কোন এক ডাক্তার দেখানোর জন্য এবং ৫এপ্রিল সকালে দুজনে হালিমদের বাড়িতে চলে যায় এবং স্ত্রীকে বাসায় রেখে হালিম তার পেশাগত কাজে বেরিয়ে যান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে হালিম খাবার খেতে বাড়িতে এসে দেখতে পায় তার স্ত্রী সোনালী খাতুন বাড়িতে নেই। আশে পাশে অনেক খুঁজা খুঁজি করার পরও তাকে না পেয়ে তার শশুর বাড়িতে ঘটনাটি জানান। এদিকে স্ত্রী বাড়ী থেকে উধাও হওয়ার একদিন পর ৬ এপ্রিল হালিমের শশুর বাড়ীর নাম্বার থেকে পার্শবর্তি একজন ফোন দিয়ে হালিমকে জানায় যে, তার স্ত্রী গলায় রশি নিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করতে যেয়ে গলায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়। জরুরী চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হালিম বলেন, এমন সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি তার কাছে রহস্য জনক মনে হয়েছে এই জন্য যে, মীমাংসার এক সপ্তাহ পার না হতেই তার স্ত্রী পূর্বের ন্যায় বাড়ী থেকে কাউকে না বলে উধাও হয়ে গেলো এ বিষয়টা সরল মনে আমি যাহাতে মেনে নেই এটা বুঝানোর জন্যই হইতো তার সাথে গলায় রশি নেওয়ার নাটক সাজিয়েছে। যাতে করে সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমি তাদের বাড়িতে চলে যায়। হালিম অভিযোগ করে আরও বলেন, তার স্ত্রী ৫এপ্রিল বাড়ী থেকে উধাও হওয়ার পর শশুর বাড়ীর লোকদের জানানো হয় এবং ঐ দিনই তাকে খুঁজে পেয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় অথচ কোথায় তাকে খুঁজে পেলো, কেনো সে আমার বাড়ী থেকে কাউকে না বলে পালিয়ে গেলো এ বিষয় গুলো ঐ দিনই তাকে না বলে পরের দিন তার স্ত্রী গলায় রশি নিয়েছে বলে শশুর বাড়ীর লোকেরা আমাকে না জানিয়ে পাশের বাড়ীর লোক দিয়ে ফোনের মাধ্যমে তাকে জানানো হচ্ছে বিষয়টা তার কাছে বোধগম্য নয়।এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে হালিমের শশুর বাড়ীর লোকেরা তার উল্টো বলেছেন, তারা বলেন, বিয়ের পর থেকেই হালিম তাদের মেয়েকে নির্যাতন করে আসছেন। তারই জের ধরে সোনালী আত্ন হত্যার চেষ্টা করতে গেছে। স্বামীর বাড়ী থেকে কাউকে না বলে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা বলেন, তাকে শারীরিক নির্যাতন করে হালিম বাড়ী থেকে চলে যাওয়ার পর সে ঐ বাড়ী থেকে পালিয়ে এসে শহরের পাগলা কানায় তার চাচাতো ভায়ের দোকানে উঠেছিল। খবর পেয়ে তারা সেখান থেকে নিয়ে এসেছে।এ বিষয়ে তদন্ত করতে যাওয়া ঝিনাইদহ সদর থানার এএসআই আতাউর রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হালিমের স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা ঐ ছেলের সাথে তার কথা হয়েছে। ছেলেটি বলেছে, সোনালির সাথে তার কথা হতো। তবে সোনালির একটি ছেলে আছে এই কথা জানার পর সে আর কথা বলেনা। উল্যেখ্য গলায় রশি নেওয়ার ৪দিন পর ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হালিমের স্ত্রী গত রাত আড়াইটার দিকে মারা গেছে বলে জানা গেছে।( ইন্না লিল্লাহি অয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here