ঝিনাইদহের মহেশপুর ক্লিনিক ব্যবসায়ী জুলফিকার এর নামে ধর্ষণ মামলা, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাত।

186

খোন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার।
স্টাফ রিপোর্টার।

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানাধীন খালিশপুর বাজারে গ্রামীণ প্রাইভেট হাসপাতালের সাবেক নাম মুক্তি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ জুলফিকার আলী ( ৪০) এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এর অভিযোগ মামলা হয়েছে।

ঐক্লিনিকে আয়ার কাজ করা এক তরুণী (২০) নিজেই বাদী হয়ে মার্চের ৭ তারিখ মহেশপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেছে । মামলা নং জিআর ১৬৪/২১। মার্চের ১০ তারিখে মহেশপুর আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন।

ধর্ষক জুলফিকার কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বলুহর বাস স্ট্যান্ড (পশ্চিম পাড়া) এর মৃত মতলেব বিশ্বাসের ছেলে।

ভুক্তভোগীর বলেন, আমি গত দুই বছর আগে খালিশপুরে অবস্থিত গ্রামীণ প্রাইভেট ক্লিনিকে(বর্তমান মুক্তি ক্লিনিক) আয়া পদে চাকরিতে যোগ দেই। ক্লিনিক মালিক জুলফিকার আলী চাকরির সুবাদে বিভিন্ন সময় আমাকে কুপ্রস্তাব দেন। আমি তার কুপ্রস্তাবে রাজী না হলে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। অত্যাচার ও কুপ্রস্তাবের মাত্রা বেড়ে গেলে চাকরি ছেড়ে চলে আসি। তবুও জুলফিকার আমার পিছু ছাড়েনি। সে বিভিন্ন সময় আমাকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এক কায়দায় আমি তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই। পরে তিনি বিভিন্ন সময় আমাকে ফোন করে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ডেকে এনে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।

ভুক্তভোগী বলেন, বহুবার শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। আমার শরীরের গঠন ও পেট উচু হওয়ার এক পর্যায়ে আমি জুলফিকার কে সব খুলে বলি। এবং ডাক্তার এর শরণাপন্ন হলে আল্ট্রাসনো রিপোর্টে বাচ্চার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এই খবর জুলফিকার কে বললে তিনি প্রথমে আমার উপর ক্ষিপ্ত হনে যান। পরে তিনি বিভিন্ন কায়দায় আমাকে বলেন পেটের বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলতে,আমি তার প্রস্তাবে রাজী না হলে এক সময় বলেন আমার ক্লিনিকের অর্ধেক অংশিদারি লিখে দেব। এবং আমাকে বিয়ে করবে। ৬ মার্চ তিনি কোটচাঁদপুর মাহাবুবা ডায়াগস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিকে কর্মরত নার্স তাসলি বেগম কে বলে কালীগঞ্জে একটি বাড়িতে আমাকে ঔষধ এর মাধ্যমে গর্ভপাত করিয়ে মৃত বাচ্চা ও ডাক্তারি রিপোর্ট ছিনিয়ে নিতে চাই এবং আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে এক সাংবাদিক এর সাহায্য নিয়ে কোটচাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।এবং মহেশপুর থানায় ৭-৩-২০২১তাং অভিযোগ দায়ের করি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহেশপুর তদন্ত ওসি মোঃ রাশেদুল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমলাটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটি এখন সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। এক ব্যাগ দেওয়া হয়েছে আরও এক ব্যাগ লাগবে। আর এই মামলার একমাত্র আসামী জুলফিকার পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে এই ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুলফিকার বিভিন্ন ভুয়া ও নামধারী মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সাথে আপোষ করে মামলার তুলার ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানাগেছে। গত বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহে এ ব্যাপারে যশোরের এক নামধারী মানবাধিকার কর্মীর মাধ্যমে কোটচাঁদপুরের কথিত নারী মানবাধিকার কর্মী ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বসাবসির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে ভূণ হত্যার ব্যপারে কোটচাঁদপুর মাহবুবা ক্লিনিকের সাবেক নার্স তাসলিমার উপর কোন কোন পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। ধর্ষণের মামলার আসামি জুলফিকার এর মুঠোফোন নম্বর, ০১৭১১২০৩৯৬৩, যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এটা চিটাগাং জুলফিকার নামে আমি কাওকে চিনিনা, অস্বীকার করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here