১০ বছর বেগার দিয়ে চাকরির বয়স শেষ ঠাঁই মেলেনি নিয়োগ তালিকায়

65

টানা ১০ বছর কাজ করার পরও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়োগের তালিকায় ঠাঁই পাননি ঝিনাইদহের বিভিন্ন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত বেশির ভাগ উদ্যোক্তা। তারা কর্মস্থল হারানোর শঙ্কায় তটস্থ হয়ে পড়েছেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের ফলে তাদের এ শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১০ সালে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়। এরপর থেকে তারা জেলার ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রে কাজ করে আসছেন। ২০১৪ সালে তথ্যসেবা কেন্দ্রকে ডিজিটাল সেন্টার ঘোষণা করা হয়। ঝিনাইদহে মোট ৬৭ ইউনিয়ন পরিষদ ও ছয়টি পৌরসভায় বেকার যুবক-যুবতিদের দিয়ে তথ্যসেবার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি সেন্টারে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদের কোষাগার থেকে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তারা জনগণকে সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের বাদ রেখে নতুন জনবল নিয়োগ করায় কর্মস্থল হারানোর পথে এসব উদ্যোক্তারা। যদিও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান হারাবে না, তবে নতুনদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে ‘খেদাব না উঠান চাষ’র অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পূর্বের উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা তাদের স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৭ সালে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার পদে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন তারা। কিন্তু তাদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত করা হয়নি। ফল না পেয়ে উদ্যোক্তারা স্থায়ী নিয়োগের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। উচ্চ আদালতে একাধিক রিটের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিটকারীদের নিয়োগের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন কিন্তু রায়ের বিপক্ষে সরকার পক্ষ আপিল করে। আপিলের শুনানিতে শর্তসাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। আদালতে মামলাটি এখনও। এদিকে উল্লেখিত পদে স্থায়ী নিয়োগের অপেক্ষায় থেকে অনেকের চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। যাদের মধ্যে ঝিনাইদহের ২৮ জন উদ্যোক্তা আদালতে রিট করেন। গত ৩ মার্চ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আদালতের দেওয়া শর্ত পূরণ করায় ১৫ জন উদ্যোক্তাকে চূড়ান্ত ফলাফলে রাখা হয়েছে। বাকি ৩৪ জন নতুন। এদের মধ্যে দুইজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রয়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলা রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হোসেন আলী মোবাইলে বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রভাগে কাজ করছি। প্রায় ১০ বছর কোনো রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের হাত ধরেই তৃণমূল পর্যায়ে বসবাসকারীদের কাছে প্রথম ডিজিটাল সেবা পৌঁছেছে। কিন্তু আমাদের কষ্ট কেউ বোঝেনি। আমরা এখন কাজ হারানোর শঙ্কায় আছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমাদের পরিবারের খাবার কেড়ে না নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে বিদায়ী ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, সরকার নতুন পদ সৃষ্টি করেছে। তাদের বেকার করেনি। তাদের চাকরি রয়েই গেছে। কাউকে তো বলা হয়নি কমর্সংস্থান ছাড়তে। তাদের দাবি ছিল কম্পিউটার অপারেটর পদে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের। ঝিনাইদহে ১৫ জনের চাকরি হয়েছে আর যারা বাদ আছেন তাদের নিয়োগ পর্যায়ক্রমে হবে বলে সরোজ কুমার নাথ উল্লেখ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here