ঝিনাইদহ সমাজ সেবা উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসের অভিযোগ

56

ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি গত ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা ধরা পড়লে সরকারি বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধি আবাসিক বিদ্যালয়ের একটি দোতলা বিশিষ্ট সরকারি কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতে শুরু করেছেন। বর্তমানেও তিনি ঐ কোয়ার্টারে পরিবার সহ বসবাস বহাল রেখেছেন। এতে দেখা গেছে প্রায় নয় মাস সরকারি কোষাগারে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঐ কোয়ার্টারটি ফ্রী ব্যবহার করে আসছেন। এছাড়াও সুত্রমতে আরও জানা যায়, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকার থেকে বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও এর আগে নিজ কর্মস্থল ঝিনাইদহ জেলাতে বসবাস না করে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলাতে অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে ঝিনাইদহ এসে অফিস করতেন তিনি। এতে করে অফিস টাইমে প্রায়ই তাকে অনিয়মিত দেখা গেছে। যারফলে অনেক সেবা প্রত্যাশীকে সেবা নিতে যেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সরকারী এসমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে থেকে যেনো সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে চাহিদা পূরণ করে রেখেছেন সরকার। জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ মুল বেতনের সাথে ৩৫শতাংশ বাড়ি ভাড়া পেয়ে থাকেন। কিন্তু সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করলে বাড়ি ভাড়া বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারেই থাকবে এমনটিই নিয়ম থাকার কথা ছিলো। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার সরেজমিনে ঝিনাইদহ-হরিণাকুন্ডু সড়কের মহিষাকুন্ডু সরকারি বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধি আবাসিক বিদ্যালয়ে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। কোয়ার্টারের দোতলা একটি ভবনে উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ পরিবার সহ বসবাস করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারি বলেন, করোনা মহামারি শুরুর থেকেই উপ-পরিচালক স্যার কোয়ার্টারে পরিবার সহ এখন পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন। এদিকে উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ কোয়াটারে বসবাস করলেও বাড়ি ভাড়া বাবদ কোন টাকা মূল বেতন সিট থেকে কাটাচ্ছেন কিনা তার সত্যতা যাচাই করতে ঝিনাইদহ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নিয়মিত বাড়ি ভাড়ার টাকা তুলে নিচ্ছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ সেখ স্বীকার করে বলেন, আমি এখানে ৪/৫ মাস আছি। রাতে বাচ্ছাদের দেখা শোনার জন্য থাকতে হয়। বাড়ি ভাড়া বাবদ কোন অর্থ সরকারি কোষাগারে দেন কিনা প্রশ্ন করলে বলেন, কোন অর্থ দিই না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here